২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ - ২২:৫০
নারীর মর্যাদা পুনরুদ্ধারে কুরআনের বাণী

কুরআনের সূরা নিসায়, অতীতের অবমাননাকর দৃষ্টিভঙ্গির বিপরীতে নারীকে মর্যাদা, সম্মান এবং আল্লাহর দেওয়া দায়িত্বসম্পন্ন সত্তা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): সূরা নিসার ২৪ নম্বর আয়াত থেকে ১৪৮ নম্বর আয়াতের সংক্ষিপ্ত তাফসীর।


জাহিলিয়্যাতের যুগে যখন নারীকে মানুষ হিসেবেই গণ্য করা হত না এবং নারীর প্রতি নানা প্রকার অপবাদ ও অবমাননা প্রজোয্য ছিল, তখন ইসলাম ধর্মে এমন আয়াত নাজিল হয় যা নারীকে সৃষ্টিজগতে এক উচ্চ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করে এবং তাকে সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়।

পবিত্র কুরআন নারীকে এমন এক সত্তা হিসেবে দেখে যার ভূমিকা হলো গঠন, শিক্ষা ও লালন-পালন; যে সত্তা সতীত্ব, মমতা ও বুদ্ধিমত্তার অধিকারী; আল্লাহর কাছে দায়িত্ব ও কর্তব্যসম্পন্ন এক মানুষ; বরকত নাজিলের মাধ্যম এবং আল্লাহর রহমতের প্রতিচ্ছবি। নারী পুরুষের পাশাপাশি তার পরিপূর্ণতা ও শান্তির কারণ এবং উভয়েই উন্নতি ও পরিপূর্ণতার পথে পরস্পরের পরিপূরক।

ইসলামী শিক্ষায় নারীর একটি স্বতন্ত্র মানবিক মর্যাদা রয়েছে। কর্তব্য ও ইবাদতে সে আল্লাহর নির্দেশের সম্বোধনকারী। সে নিজের মোহরের অধিকারী এবং তার ভরণপোষণের দায়িত্ব পুরুষের ওপর অর্পিত হয়েছে। ইসলামের দৃষ্টিতে নারী পরিবার ও সমাজে কল্যাণ ও বরকতের এবং প্রজন্মের উন্নতির কারণ হিসেবে পরিচিত।

ইমাম খোমেনী (রহ.) একটি উক্তিতে বলেছেন, “দেশের সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্য নারীর অস্তিত্বের ওপর নির্ভরশীল। নারী তার সঠিক লালন-পালনের মাধ্যমে মানুষ গড়ে তোলে এবং তার সঠিক লালন-পালনের মাধ্যমে দেশকে সমৃদ্ধ করে। সকল সৌভাগ্যের সূচনা নারীর কোল থেকেই হয়। নারী সকল সৌভাগ্যের উৎস হওয়া উচিত।” (সহিফায়ে ইমাম: ৭ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৩৯)

যে সমাজে নারীরা নিরাপত্তা, সম্মান ও মর্যাদার সাথে জীবনযাপন করে, সেখানে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অনেক কারণ আছে। এই নিরাপত্তা, সম্মান ও মর্যাদা এক আল্লাহি নিয়ামত এবং এজন্য আমাদের মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করা উচিত।

Tags

Your Comment

You are replying to: .
captcha